রিজেনেরেটিভ মেডিসিন এর মূলে রয়েছে স্টেম সেল টেকনোলজি। স্টেম শব্দটির অর্থ কান্ড, এবং সেল শব্দের অর্থ কোষ। গাছের কান্ড থেকে শাখা প্রাশাখা ছড়িয়ে পড়ে যেমন পুরো গাছ জন্ম নেয়, একইভাবে স্টেম সেলের বিভাজন ও
বিকাশের মাধ্যমে তৈরি হয় মানব দেহের কোষ, কলা, অঙ্গ-প্রত্যাঙ্গ। ২০০৭ সালে জাপানি বিজ্ঞানীরা প্রথম সাধারণ সেলকে স্টেম সেল এ রূপান্তরের প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করেন। রোগ বা বার্ধক্যজণিত কারণে কোন অঙ্গের কোষ মারা গেলে সেই অঙ্গের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। রিজেনেরেটিভ মেডিসিনের মাধ্যমে কোন অঙ্গের মরে যাওয়া অংশটিতে নিজ দেহেরে স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করে পুনরুজ্জীবিত করার নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি শুরু হয়েছে। জাপান এই প্রযুক্তিতে অগ্রগামী। জাপানে চোখ (কর্ণিয়া), হৃদযন্ত্র, খাদ্যনালী, দাঁত, হাড় প্রভৃতি অঙ্গের ক্ষতিগ্রস্থ স্থানটি, স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে।
জাপানের অর্থ-বাণিজ্য-শিল্প মন্ত্রণালয়ের সরাসরি তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত
Copyright © 2012 Emergency Assistance Bangladesh. All Rights Reserved.

ক্যান্সার হেভি আয়ন রেডিয়েশেন থেরাপি
এক্স-রে কিংবা গামা-রে এর মতো পার্টিকেল বিম এক ধরণের রেডিয়শন যাতে হাইড্রোজেন বা কার্বন পরমাণু নিউক্লিয়াস ব্যবহৃত হয়। পার্টিকেল এক্সেলেরেশন প্রযুক্তিতে জাপান সর্বোচ্চমানের। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে, পার্টিকেল বিম এর গতি বাড়িয়ে, তা দিয়ে দেহের গভীরে অবস্থিত ক্যান্সার কোষে আঘাত হানা হয়। তবে দ্রুতগতি প্রাপ্ত হওয়ার ফলে, পার্টিকেল বিম দেহে প্রবশের সময় আশেপাশে ছড়িয়ে পড়ে না। বরং আশেপাশের সাধারণ টিস্যুর ক্ষতি না করে, সরাসরি ক্যান্সার টার্গেট আঘাত হানে। পার্টিকেল বিম থেরাপির অন্যতম হচ্ছে হেভি আয়ন রেডিয়েশন থেরাপি। এশিয়া মহাদেশে কেবলমাত্র জাপানেই হেভি আয়ন রেডিয়েশন থেরাপির ব্যবস্থা আছে। দেহের গভীরে ক্যান্সারের অবস্থানের কারণে অপারেশন করা সম্ভব নয় বা রোগী অপারেশন চান না, এমন অবস্থায় পার্টিকেল বিমই শ্রেষ্ঠ। হাসপাতালে ভর্তি হবার প্রয়োজন নেই। স্বল্প সময়ে, জটিলতা বিহীন থেরাপি।
এন্ডোসকোপিক সার্জারি
এন্ডোসকোপ হচ্ছে চিকন নমনীয় টিউবের এক প্রান্তে ক্যামেরা লাগানো একটি চিকিৎসা যন্ত্র। প্রাথমিক ভাবে এন্ডোসকোপ খাদ্য-নালীতে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করার কাজে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে এটি ব্যবহার করে নানা ধরণের অপারেশন করা হচ্ছে। এন্ডোসকোপ এর ওয়ার্ল্ড মার্কেটের ৭০ শতাংশ জাপানি কোম্পানি অলিম্পাসের দখলে। মার্কেটের বাকি অংশেও ফুজিফিল্ম বা হোয়া কর্পোরেশন এর মতো জাপানি কোম্পানি গুলির প্রাধান্য আছে। সঙ্গত কারনেই এর ব্যবহারিক দিক দিয়েও জাপান এগিয়ে আছে। জাপানের এন্ডোসকোপিক সার্জনরা বিশ্বসেরা, যে কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে রোগীরা এন্ডোসকোপিক সার্জারি করাতে জাপানে যান।
কাস্টমাইজড ( অর্ডার-মেড) মেডিসিন
অর্ডার দিয়ে চশমা বানানোর মতোই এখন অর্থোপেডিক সার্জারি, প্লাষ্টিক সার্জারি সহ বহু বিভাগে অর্ডার-মেড চিকিৎসার প্রয়োগ চলছে। দেহের ভিতরে কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিখুঁত মাপ এবং টেকসই উপাদানের বিকল্প নেই। মেড ইন জাপান মানেই নিখুঁত মাপে তৈরী এবং টেকসই। কৃত্রিম হাড় বা জয়েন্ট তৈরীর ক্ষেত্রে জাপান আল্ট্রা-হেভিমলিকিউলার-ওয়েট পলিথিন ব্যবহার করছে। পার্শ্ববতী টিস্যু সতেজ রেখে মজবুত জয়েন্ট ফিটিংস এর জন্য যোগ করা হচ্ছে সামান্য পরিমাণ ভিটামিন-ই। ধাতব অংশের প্রতি হাইপার সেন্সিটিভিটি
রোধ করতে উদ্ভাবন করা হয়েছে, যিক্রোনিয়াম, নিওবিয়াম ও ট্যান্টালাম মিশ্রিত শংকর ধাতু। জাপানে তৈরী ও প্রতিস্থাপন করা কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বহু বছর টেকে এবং ক্ষয় বা ঢিলা হয় না। এছাড়া মেড ইন জাপান-চোখের লেন্স, কৃত্রিম শ্রবণ ও বাক-যন্ত্র সারাবিশ্বে সমাদৃত।
ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপি
দেশে দেশে বার্ধক্যজনিত কারণে দাঁত পড়ে যাবার হার
ওরাল মেডিসিন ও ডেন্টিষ্ট্রি
বার্ধক্যজনিত কারণে দাঁত পড়ে যাবার হার পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় জাপানে অনেক কম। এর প্রধান কারণ দাঁতের যত্ন এবং উচ্চমানের চিকিৎসা। দাঁত ও মুখ গহ্বরের চিকিৎসার জন্য ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি এবং টেকসই ম্যাটেরিয়াল অত্যাবশ্যক। এগুলি জাপান নিজে তৈরী করে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও করে। দাঁত ও মুখ গহ্বরের চিকিৎসার ক্ষেত্রে জাপানি চিকিৎসকদের টেকনিক বিশ্বসেরা।
জিন থেরাপি
জাপানে আরো অনেক ধরণের অত্যধুনিক চিকিৎসা আছে যার ব্যবস্থা আমরাই করতে পারি।
জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে, ত্রুটিমুক্ত জিনকে ভেক্টর বা কোষে ঢুকিয়ে তা রোগীর শরীরে ইঞ্জেক্ট করা হয়। এভাবে ত্রুটিপূর্ণ জিন প্রতিস্থাপন করা হয়।
ক্যান্সার চিকিৎসায় বর্তমানে ইন্টারলিউকিন, মনোক্লোনাল এ্যান্টিবডি, এ্যাক্টিভেটেড টি-লিম্ফোসাইট কিংবা এ্যাক্টিভেটেড ডেন্ড্রিটিক সেল ব্যবহার করা শুরু হয়েছে। এ্যাক্টিভেটেড ডেন্ড্রিটিক সেল ব্যবহার করে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে জাপান অর্জন করেছে ধারাবাহিক সাফল্য। নিজের শরীর থেকে ডেন্ড্রিটিক সেল বের করে, ক্যান্সারকে টার্গেট করে এ্যাক্টিভেট করা হয়। তার পর এ্যান্টি-ক্যান্সার ভ্যাক্সিন হিসাবে তা আবার শরীরে ইঞ্জেক্ট করে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় কান্সারকে আক্রমণ করার জন্য। এই থেরাপিতে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া খুব কম। জাপানে গিয়ে ক্যান্সার ইমিউনোথেরাপি শুরু করে, পরবর্তীতে দেশে ফিরে থেরাপি চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
রিজেনেরেটিভ মেডিসিন (অচল অঙ্গ সচল করার চিকিৎসা)